জীবনবৃত্ত

খাবার গ্রহণের সময় কিছু আদব কায়দা যা রাসুল (সা.) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।

খাবার খাওয়ার সুন্নত তরিকা
খাবার খাওয়ার সুন্নত তরিকা

খাবার গ্রহণে রাসুল (সা.) এর সুন্নত।  রাসুল (সা.)  খুব ছোট বিষয় থেকে শুরু করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।  কিভাবে কি করলে বা কি মেনে চলতে পারলে আমাদের জীবন সহজ বা সুন্দর হবে।  এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খাবারের আদব কায়দা।
অর্থাৎ খাবারের সময় কিছু বিষয় খেয়াল করা বা মেনে চলা।

খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা

রাসুল (সা.) খাবার গ্রহণের আগে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন।
তার সঙ্গীদেরও বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করতেন।
রাসুল (সা.)  বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও।
’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৩)

হাত ধুয়ে শুরু শেষ করা

খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়া আবশ্যক।
না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে।
রাসুল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন।
(মুসনাদে আহমাদ)অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) খাওয়ার পর কুলি করতেন এবং হাত ধৌত করতেন।
(মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)

দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া

আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না।
কাতাদা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন?
তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর। ’ (বোখারি : ৫৩৮৬)

আঙুল চেটে খাওয়া

আঙুল চেটে খাওয়ার ফলে বরকত লাভের অধিক সম্ভাবনা থাকে। কারণ খাবারের বরকত কোথায় রয়েছে মানুষ তা জানে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কেননা বরকত কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৯১৪)

খাবারে ফুঁ না দেওয়া

খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। রাসুল (সা.) খাবারে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)

খাবারের শেষে দোয়া পড়া

আল্লাহ তাআলা খাবারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনেক বড় দয়া ও অনুগ্রহ করেন। এ দয়ার কৃতজ্ঞতা আদায় করা সভ্যতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। খাবার গ্রহণ শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য।

খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা

শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক।
কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান।
রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)  কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না।
তার পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না।
(বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)

এগুলো নিয়ম মেনে চলতে পারলে আমাদের জীবন সুন্দর হবে।
নিজে আমল করি বাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকলে , উপরের আদব কায়দা গুলি শিখাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

Video